জিম্বাবুয়েতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বাতিলের প্রস্তাবকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটের বদলে পার্লামেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় বিরোধীরা এটিকে ক্ষমতা দখলের কৌশল হিসেবে দেখছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বাতিল করা হতে পারে এবং বর্তমান পাঁচ বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে সাত বছর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত নির্বাচন পেছানো এবং বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর পথও তৈরি হবে।
বিরোধী নেতারা এই উদ্যোগকে ধীরগতির অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করা হচ্ছে এবং জনগণের ভোটাধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বলছে, এই পরিবর্তন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে এবং ব্যয়বহুল ও সহিংস নির্বাচনী প্রক্রিয়া কমাবে। তাদের মতে, পার্লামেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
এই প্রস্তাব নিয়ে আয়োজিত জনশুনানিতে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা গেছে। সমর্থকরা প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, তাদের মতামত প্রকাশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এবং মেয়াদ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হবে।
সংবিধানের পূর্ববর্তী বিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়াতে হলে গণভোট প্রয়োজন। বিরোধীরা বলছে, নতুন প্রস্তাব সেই নিয়মের পরিপন্থী এবং আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ক্ষমতাসীন দল অবশ্য দাবি করছে, তারা সংবিধানের মধ্যেই থেকে পরিবর্তন আনছে এবং এতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
এই পরিস্থিতিতে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি একক শাসনের পথ তৈরি হতে পারে, আর সরকার বলছে, এটি উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
















