একাধিক চাকরি করেও পরিবার চালাতে হিমশিম, বাড়ছে ক্ষুধা ও বিক্ষোভ
শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা, ঝুঁকিতে পুরো প্রজন্ম
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে শিক্ষকদের জীবনযাপন চরম সংকটে পড়েছে। বেতন অনিয়মিত, কমে যাওয়া আয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছেন।
মুকাল্লা শহরের শিক্ষক মোহাম্মদ সালেম দিনে তিনটি কাজ করেও পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। একসময় যেখানে তার মাসিক আয় ছিল প্রায় ৩২০ ডলার, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩০ ডলারে।
ইয়েমেনি রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে এক ডলারের মূল্য ছিল প্রায় ২১৫ রিয়াল, এখন তা হাজার ছাড়িয়েছে।
২০১৬ সালের পর থেকে হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রায় বন্ধ, অন্যদিকে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেও নিয়মিত বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার শিক্ষক বেতন পাচ্ছেন না এবং ৬৬ লাখ শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে। হাজার হাজার স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
বেতন সংকটের কারণে অনেক শিক্ষক পরিবার নিয়ে খাবার কমিয়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে কাজে পাঠাচ্ছেন।
নারী শিক্ষকরা আরও কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন, কারণ তাদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সীমিত। অনেকের মাসিক আয় ৫০ ডলারেরও কম।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষকরা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে শিক্ষাব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন কিছু প্রণোদনা দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম এবং অঞ্চলভেদে ভিন্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইয়েমেনের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে এবং একটি পুরো প্রজন্ম শিক্ষার বাইরে চলে যেতে পারে।
















