শেষ মুহূর্তে মেসির জাদু ফুটলেও তা আর আলো ছড়াতে পারেনি জয়পথে। শনিবার রাতে মার্কিন মেজর লিগ সকার (এমএলএস) কাপের প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে ন্যাশভিল এসসি ২–১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামিকে। এই জয়ে ন্যাশভিল টিকিয়ে রাখল টুর্নামেন্টে নিজেদের আশা, আর বাধ্য করল মেসির দলকে ফ্লোরিডায় তৃতীয় ও নির্ণায়ক ম্যাচ খেলতে।
বৃষ্টিভেজা ন্যাশভিলের জিওডিস পার্কে যেন থেমে গিয়েছিল সময়—প্রথমার্ধেই দুই গোল করে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। নবম মিনিটে স্যাম সুরিজের নিখুঁত পেনাল্টি শটে এগিয়ে যায় ন্যাশভিল। মায়ামির গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো মুহূর্তের দ্বিধায় ধরা পড়েন, সেই সুযোগেই বল জালে জড়ান সুরিজ।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে জশ বাউয়ারের বাঁ পায়ের শট ন্যাশভিলের ব্যবধান দ্বিগুণ করে। হানি মুকতারের কর্নার থেকে আসা বল পেয়ে তিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচের রঙ বদলে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে মায়ামি ফিরে আসে লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে। লুইস সুয়ারেজের কাছ থেকে আসে বিপজ্জনক এক প্রচেষ্টা, কিন্তু ন্যাশভিল গোলরক্ষক জো উইলিস দারুণ সেভে তা ফেরান। বল ঘুরতে থাকে এক দিক থেকে আরেক দিকে, কিন্তু গোলের দেখা মিলছিল না।
তারপর মঞ্চে আসেন লিওনেল মেসি—জার্সি নম্বর ১০, হৃদয় জয়ের প্রতীক। ৮৫ ও ৮৬ মিনিটে তার দুটি প্রচেষ্টা আটকে যায়, কিন্তু ৮৯তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পাস পেয়ে মেসি বাঁ পায়ের জাদুতে বল পাঠান জালের ওপর কোণে। ব্যবধান কমে আসে, কিন্তু সময় তখন আর মায়ামির পক্ষে ছিল না।
এই ম্যাচে ন্যাশভিল ২০২৩ সালের মে মাসের পর প্রথমবার ইন্টার মায়ামিকে হারায়, ভাঙে টানা দশ ম্যাচের জয়হীন ধারা।
এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মেসির দুটি গোলের সুবাদে মায়ামি ৩–১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। কিন্তু এবার গল্পের মোড় ঘুরেছে—সব কিছু নির্ভর করছে শেষ লড়াইয়ের ওপর।
আগামী শনিবার ফ্লোরিডায় হবে তৃতীয় ও চূড়ান্ত ম্যাচ। জয়ী দল মুখোমুখি হবে কলম্বাস বা সিনসিনাটির। এখন প্রশ্ন একটাই—মেসির জাদু কি আবারও ফিরিয়ে আনবে ইন্টার মায়ামিকে গৌরবের পথে, নাকি ন্যাশভিলই লিখবে নতুন ইতিহাস?
















