যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর এশিয়ার বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা গেছে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হবে। এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেলেও পরে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে—এমন খবরের কারণে কিছুটা কমে আসে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিটি নতুন খবরের সঙ্গে তেলের দাম ওঠানামা করবে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা চলতে পারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এখানে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরান সপ্তাহান্তে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করেছে, তাদের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থে আরও আঘাত হানা হবে।
অন্যদিকে তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস মে মাসে সামান্য উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে অনেক সদস্য দেশ বাস্তবে উৎপাদন বাড়াতে পারছে না।
ট্রাম্প একাধিকবার সময়সীমা দিলেও ইরানকে চাপ দিতে আবারও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমাধান না হলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এই হুমকিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে পাল্টা সতর্ক করেছেন যে, এমন পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
















