যুদ্ধ ও সংকটের মধ্যে নীরব প্রার্থনায় কাটছে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব
খাদ্য, বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভেঙে পড়েছে উৎসবের ঐতিহ্য
গাজায় খ্রিস্টান সম্প্রদায় তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার পালন করেছেন গভীর শোক ও উদ্বেগের মধ্যে। চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের কারণে এবারের উৎসবে নেই কোনো আনন্দ আয়োজন, বরং নীরব প্রার্থনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল সবকিছু।
বিশ্বজুড়ে ইস্টার সাধারণত আনন্দ ও উদযাপনের সময় হলেও গাজায় বসবাসরত অল্পসংখ্যক খ্রিস্টানদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে আরেকটি কষ্টের দিন। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও হামলায় তাদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গাজায় বর্তমানে এক হাজারেরও কম খ্রিস্টান বসবাস করেন। যুদ্ধ শুরুর পর অনেকেই নিহত হয়েছেন বা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
চার্চগুলোতে সীমিত পরিসরে প্রার্থনা ও ছোট সমাবেশের মাধ্যমে ইস্টার পালন করা হয়েছে। অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জন হারানোর শোকের কারণে কোনো উৎসব আয়োজন করেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকট উৎসবের পরিবেশকে আরও ম্লান করে দিয়েছে। ইস্টারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ডিম, যা শিশুদের আনন্দের প্রতীক, সেটিও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
অনেক পরিবার ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করতে পারেনি, কারণ মাংস ও অন্যান্য খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে এবং সরবরাহ সীমিত।
গাজায় বিদ্যুৎ ও পানির সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অনেক এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগের বছরগুলোতে ইস্টার ছিল আনন্দ ও মিলনের সময়, যখন পরিবার-পরিজন একত্রিত হয়ে উৎসব করতেন। কিন্তু এখন সেই পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে।
অনেকেই চার্চেই আশ্রয় নিয়েছেন, কারণ তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব চার্চও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা উদযাপন না করে শুধু প্রার্থনা করেছেন এবং শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছেন।
তাদের মতে, ধর্ম বা পরিচয় যাই হোক না কেন, গাজায় সবাই একই সংকটের মুখোমুখি এবং সবাই এই কষ্ট ভাগ করে নিচ্ছে।
















