ইরান যুদ্ধের কারণে উৎপাদন বাড়াতে পারছে না অনেক দেশ, প্রতীকী সিদ্ধান্ত বলছে বিশ্লেষকরা
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহে বড় সংকট
তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস মে মাসের জন্য দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে এই সিদ্ধান্তকে মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাবে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর একটি। এর ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ভার্চুয়াল বৈঠকে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানসহ আটটি দেশ এই সিদ্ধান্তে সম্মত হয়।
জোটটি জানিয়েছে, তারা বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
তারা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে। এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় প্রয়োজন হয়, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত উৎপাদন বৃদ্ধি মোট ঘাটতির তুলনায় খুবই কম, কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহের বড় অংশ ব্যাহত হয়েছে।
বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে এবং তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
এদিকে কিছু দেশকে সীমিতভাবে প্রণালি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল বাজারে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও অর্থনীতিতে পড়বে।
















