পবিত্র সপ্তাহ উপলক্ষে সাধারণত জেরুজালেমের পুরনো শহর জমজমাট থাকলেও এবার ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। দোকানপাট বন্ধ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান সীমিত—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
পুরনো শহরের খ্রিস্টান পাড়ায় অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রেখেছেন। কেউ কেউ আংশিকভাবে দোকান খুললেও ক্রেতা না থাকায় আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এক ব্যবসায়ী জানান, আগে সীমিত হলেও কিছু আয় ছিল, এখন সেটিও নেই।
গত কয়েক বছর ধরে মহামারি ও বিভিন্ন সংঘাতের কারণে এই এলাকার ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক মাসের বেশি সময় ধরে সরাসরি ক্লাস বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক—সবার ওপরই এর প্রভাব পড়ছে।
প্রতি বছর পাম সানডে ও অন্যান্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হলেও এবার সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ গির্জায় উচ্চপর্যায়ের ধর্মীয় নেতাদের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণ দেখালেও স্থানীয় খ্রিস্টানরা এটিকে তাদের ওপর চাপ হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
ধর্মীয় নেতারা জানিয়েছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তারা বলছেন, ধর্মীয় আচার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়।
স্থানীয় খ্রিস্টানদের সংখ্যা ইতোমধ্যেই খুব কম, মোট জনসংখ্যার সামান্য অংশ। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অস্তিত্ব আরও সংকটে পড়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল এই সম্প্রদায়ের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক তরুণ দেশ ছাড়ার কথা ভাবছে।
ধর্মীয় নেতারা বলছেন, এই সময় ধৈর্য ও মানসিক শক্তিই সবচেয়ে বড় ভরসা। তারা মানুষকে আশা না হারানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, পবিত্র সপ্তাহে জেরুজালেমের খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবার এক নীরব ও কঠিন সময় পার করছে, যেখানে ধর্মীয় আনন্দের পরিবর্তে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগই প্রধান হয়ে উঠেছে।
















