ব্রিটেনের রাজা চার্লসের কাছে এপস্টাইন কেলেঙ্কারির ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আহ্বান জানিয়েছে ভার্জিনিয়া জিউফ্রের পরিবার। চলতি মাসের শেষ দিকে তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এই সাক্ষাৎ আয়োজনের অনুরোধ করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সফরটি জিউফ্রের মৃত্যুর বার্ষিকীর কাছাকাছি সময়ে হচ্ছে। তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিলে মারা যান এবং তার মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জিউফ্রে ২০১০ সালে প্রথম প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে, কিশোরী বয়সে তাকে ধনী অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইন ও তার সহযোগী দ্বারা প্রভাবিত ও পাচার করা হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে ব্রিটেনের তৎকালীন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর কাছেও পাঠানো হয়েছিল।
জিউফ্রের ভাই ও ভাবি এক বিবৃতিতে বলেন, তারা চান রাজা চার্লস সরাসরি ভুক্তভোগীদের কথা শুনুন। এতে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এপস্টাইনের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টাইন তদন্তসংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক নথি প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব নথি প্রকাশের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তি পদত্যাগ করেছেন এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এপস্টাইন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান, যখন তার বিরুদ্ধে যৌন পাচারের অভিযোগে বিচার চলছিল। তার মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ব্রিটেনে এ ঘটনায় প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে রাজপরিবারের দায়িত্ব ও সম্মানসূচক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতের বাইরে একটি সমঝোতায় পৌঁছান।
রাজপরিবারের পক্ষ থেকে আগেও ভুক্তভোগীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে জিউফ্রের পরিবারের এই নতুন আহ্বান বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, এপস্টাইন কেলেঙ্কারি ঘিরে বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে আবারও চাপ বাড়ছে।
















