চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
ফরাসি একটি কনটেইনার জাহাজ, ওমান-সংযুক্ত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং জাপান-সম্পৃক্ত একটি গ্যাসবাহী জাহাজ সফলভাবে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে।
ফরাসি শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন জাহাজটি যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম পশ্চিমা জাহাজ হিসেবে এই পথ ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে কীভাবে এটি নিরাপদে পারাপার নিশ্চিত করেছে, তা স্পষ্ট নয়।
জাহাজটির গন্তব্য পরিবর্তন করে মালিকানার পরিচয় প্রদর্শন করা হয়েছিল, যা সম্ভবত নিরাপদ চলাচলে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া পারাপারের সময় কয়েকটি জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ করে দেয়, ফলে তাদের গতিপথ সাময়িকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়।
ওমান পরিচালিত তেলবাহী জাহাজগুলোও একই সময়ে উপসাগর ত্যাগ করেছে। অন্যদিকে, জাপানের একটি তরল গ্যাসবাহী জাহাজও সফলভাবে প্রণালী অতিক্রম করেছে—যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম এ ধরনের ঘটনা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে এবং খুব কম সংখ্যক জাহাজই ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছে।
এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এর ওপর যেকোনো প্রভাব সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে কীভাবে ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিরাপদ রাখা যায়। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সামরিক নয় বরং কূটনৈতিক সমাধানই এই সংকট নিরসনের একমাত্র পথ হতে পারে।
















