গ্রিসের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭ জনের বিচার শুরু হয়েছে, যেখানে স্বজনরা ন্যায়বিচারের দাবিতে আদালতে ভিড় জমিয়েছেন।
লারিসা শহরের আদালতে অনুষ্ঠিত এই বিচারকাজে নিহতদের পরিবারগুলো অভিযোগ করেছেন, তাদের যথাযথভাবে শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। অনেকেই আদালতে ঢুকতে পারেননি,আর যারা ঢুকেছেন তারাও পর্যাপ্তভাবে কার্যক্রম দেখতে পারছেন না।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ দুর্ঘটনায় অধিকাংশ নিহত ছিলেন শিক্ষার্থী। এথেন্স থেকে থেসালোনিকি যাওয়ার পথে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন একই লাইনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
প্রাথমিক সংঘর্ষের পর আগুনে পুড়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এই ঘটনায় ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে তাদের মধ্যে ৩৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এক স্টেশন মাস্টার, যিনি ট্রেন দুটি একই লাইনে আসার বিষয়টি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন।
এছাড়া আরও কয়েকজন রেল কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মচারীরাও বিচারের মুখোমুখি।
দুর্ঘটনাটি গ্রিসে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও দুর্নীতির ফল বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইউরোপীয় তহবিল থাকা সত্ত্বেও রেল নিরাপত্তা আধুনিকায়ন করা হয়নি। এমনকি দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে ফেলা হয়, যা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করেছে বলে সমালোচনা রয়েছে।
এই মামলায় প্রায় ৩৫০ জন সাক্ষ্য দেবেন এবং বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
নিহতদের স্বজনরা বলছেন, তারা শুধু শাস্তি নয়, সত্য উদঘাটনও চান। তাদের অভিযোগ, এই ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
আদালতের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক স্বজন বলেন, তাদের গাদাগাদি করে বসতে হয়েছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।
এই বিচারকে ঘিরে এখনো দেশজুড়ে উত্তেজনা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
















