যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার পর্যটন খাত কার্যত ভেঙে পড়েছে। ট্যাক্সিচালক থেকে শুরু করে ট্যুর গাইড—হাজার হাজার মানুষ জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
রাজধানী হাভানার পর্যটনকেন্দ্রগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। আগে যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের আনাগোনা ছিল, এখন সেখানে কাজের সুযোগ খুবই সীমিত।
ট্যাক্সিচালকরা জানিয়েছেন, আগে দিনে কয়েক ঘণ্টা কাজ মিললেও এখন অনেক সময় এক বা দুই ঘণ্টার বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের জীবিকা পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
একজন ট্যুর গাইড জানান, আগে প্রতি সপ্তাহে একাধিক গ্রুপ নিয়ে কাজ করতেন, কিন্তু এখন দুই-তিন সপ্তাহেও একটি ট্যুর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আয় কমে গেছে এবং দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে।
পর্যটন খাত একসময় কিউবার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কারণে এই খাত দুর্বল হয়ে পড়ে, আর নতুন করে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে গণপরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চলাচল ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। অনেক কর্মী কাজের জায়গায় যেতেই পারছেন না।
হোটেল ও আবাসন খাতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। অনেক হোটেলে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং অতিথি না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
পর্যটননির্ভর আবাসন ব্যবস্থাপনায় জড়িত একজন কর্মী জানান, আগে সব কক্ষই বুকিং থাকত, কিন্তু এখন সবই খালি পড়ে আছে। ফলে তার আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই বিকল্প পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কেউ আবার দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি সংকট এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ একসঙ্গে প্রভাব ফেলায় পর্যটন খাত পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সামগ্রিকভাবে, কিউবার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের ধস সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর সংকট তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
















