পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত প্রশমনের প্রচেষ্টা জোরদার হলেও, চীনের ভূমিকা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বর্তমানে চীন প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সরাসরি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামবে—এমন সম্ভাবনা কম।
চীন সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সংঘাতে সামনে না এসে পরোক্ষ কূটনীতি বা ব্যাকচ্যানেল সমর্থন দেয়। ফলে এই প্রক্রিয়ায় তারা পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে পারে, কিন্তু সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার নেতৃত্ব নেবে না।
চীনের আগ্রহের মূল কারণ অর্থনৈতিক। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া, চীনের বৃহৎ অবকাঠামো উদ্যোগ—বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) এবং পাকিস্তানে সিপেক প্রকল্প—এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল।
তবে “গ্যারান্টর” বা চুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে চীন ভূমিকা নেবে কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব নিতে বেইজিং সতর্ক থাকবে।
সব মিলিয়ে, চীন এই শান্তি প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরোক্ষ ভূমিকা রাখবে—পাকিস্তান থাকবে মূল মধ্যস্থতাকারী, আর চীন থাকবে কৌশলগত সহায়কের ভূমিকায়।
















