তিন মাসের দীর্ঘ জ্বালানি সংকটের পর রাশিয়ার একটি তেলবাহী জাহাজ কিউবায় পৌঁছেছে। এতে থাকা জ্বালানি দেশটির প্রয়োজন মেটাতে প্রায় ৯ থেকে ১০ দিন সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার পতাকাবাহী এই জাহাজটি প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল নিয়ে মাতানসাস উপসাগরে নোঙর করে, যা কিউবার সবচেয়ে বড় তেল সংরক্ষণ ও পরিবহন কেন্দ্র।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধ থাকা সত্ত্বেও মানবিক কারণে এই জাহাজটিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জাহাজটি পৌঁছানোর সময় কিউবার অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে, যা হাসপাতাল, গণপরিবহন এবং কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা এই সহায়তার জন্য রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই চালান বর্তমান সংকটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তেল প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করতে কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে এটি সাময়িকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে পারে।
কিউবা বর্তমানে নিজের প্রয়োজনের মাত্র ৪০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করতে পারে এবং বাকি অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
ধারণা করা হচ্ছে, এই চালান থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ডিজেল উৎপাদন সম্ভব, যা দৈনিক চাহিদা মেটাতে প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় সহায়তা দেবে।
এর আগে কিউবা প্রধানত ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করত, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সামগ্রিকভাবে, এই তেলবাহী জাহাজ কিউবার জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট এখনো কাটেনি।
















