ব্রিটেনের রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা আগামী এপ্রিলের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। বাকিংহাম প্রাসাদ এ রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সফরের অংশ হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফর শেষে ফেরার পথে রাজা উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের ব্রিটিশ অধীনস্থ অঞ্চল বারমুডাও পরিদর্শন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিস্তারিত সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে এতে ওয়াশিংটন ডিসি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০০৭ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সফরের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
এই সফরে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় ভোজসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রাজা কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সফরে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গুরুত্ব পাবে।
সফর ঘোষণার ঠিক আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে সমালোচনা করে বলেন, তারা যেন নিজেদের জ্বালানি নিজেরাই সংগ্রহ করে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরের পর থেকেই এই পাল্টা সফরের আলোচনা চলছিল। উইন্ডসর ক্যাসেলে অনুষ্ঠিত ওই সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয় বলে ধারণা করা হয়।
ট্রাম্প রাজা চার্লসের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, তিনি তাকে অত্যন্ত সম্মান করেন এবং আবারও সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন।
এই সফরে রাজা তার ছেলে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কিনা, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে, কারণ তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
তবে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা গেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সমালোচনা করেছেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক মানুষ এই সফরের বিরোধিতা করছেন, আর এক-তৃতীয়াংশ সমর্থন জানিয়েছেন।
এছাড়া সাম্প্রতিক কিছু বিতর্ক, গ্রেপ্তার ও অভিযোগ নিয়েও আলোচনা চলছে, যা সফরের সময় বাড়তি গুরুত্ব পেতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সফরের সিদ্ধান্ত সরকার নিয়ে থাকে এবং রাজা পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিত্ব করে এ ধরনের সফর সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
















