Dhaka ১০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: মৌলবাদের দায় চাপানোয় বিতর্কের ঝড়

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশ নয়, ওপার বাংলাতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে এই ঘটনাকে ভারতের কলকাতার সাংবাদিক ও রিপাবলিক বাংলার সাবেক উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের ‘মৌলবাদীদের’ কাজ বলে আখ্যায়িত করা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সালমানের স্টুডিওর সেট ডিজাইনের প্রশংসা করেন এবং লেখেন যে, ঢাকায় না হয়ে কলকাতায় হলে তিনি নিজেই সেটি ভাড়ার জন্য নিতেন। তবে তিনি এই হামলার দায় সরাসরি ‘মৌলবাদীদের’ ওপর চাপিয়ে দেন। পোস্টে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিরিয়া বা লিবিয়া নয়, মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরের ঢাকায় এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভীত। তার আশঙ্কা, কলকাতায় এ ধরনের ‘মৌলবাদীদের’ সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে সেখানেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। সবশেষে তিনি সালমানকে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিয়েটর সমাজকে মুখ খোলার আহ্বান জানান।

প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে সালমানের পাশে দাঁড়িয়ে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের এমন মন্তব্য কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে ভাঙচুরের ঘটনাটিকে সরাসরি ‘মৌলবাদীদের কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতায় বসে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন? তিনি কি স্থানীয় চাঁদাবাজদের মৌলবাদী বলতে চাইছেন, নাকি পুরো বাংলাদেশকেই মৌলবাদের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন?

কারণ, সালমান মুক্তাদির নিজেই জানিয়েছেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই হামলা হয়েছে এবং তিনি এর পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ইঙ্গিত করেছেন। পাশাপাশি, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও বলা হয়েছে, স্টুডিওর ভবনের মালিকের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই ভাঙচুর। এখানে ধর্মীয় মৌলবাদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কলকাতার একজন সাংবাদিকের এমন মন্তব্যকে স্থানীয় চাঁদাবাজি বা জমিজমার বিরোধকে ‘মৌলবাদ’ ট্যাগ দিয়ে দেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের একটি অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতে যে রাজনৈতিক সমীকরণ বা ‘মৌলবাদ’ নিয়ে ভয়াবহতা চলছে, বাংলাদেশেও তা প্রমাণের জন্য একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে কতটা মানানসই, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: মৌলবাদের দায় চাপানোয় বিতর্কের ঝড়

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশ নয়, ওপার বাংলাতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে এই ঘটনাকে ভারতের কলকাতার সাংবাদিক ও রিপাবলিক বাংলার সাবেক উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের ‘মৌলবাদীদের’ কাজ বলে আখ্যায়িত করা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সালমানের স্টুডিওর সেট ডিজাইনের প্রশংসা করেন এবং লেখেন যে, ঢাকায় না হয়ে কলকাতায় হলে তিনি নিজেই সেটি ভাড়ার জন্য নিতেন। তবে তিনি এই হামলার দায় সরাসরি ‘মৌলবাদীদের’ ওপর চাপিয়ে দেন। পোস্টে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিরিয়া বা লিবিয়া নয়, মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরের ঢাকায় এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভীত। তার আশঙ্কা, কলকাতায় এ ধরনের ‘মৌলবাদীদের’ সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে সেখানেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। সবশেষে তিনি সালমানকে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিয়েটর সমাজকে মুখ খোলার আহ্বান জানান।

প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে সালমানের পাশে দাঁড়িয়ে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের এমন মন্তব্য কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে ভাঙচুরের ঘটনাটিকে সরাসরি ‘মৌলবাদীদের কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতায় বসে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন? তিনি কি স্থানীয় চাঁদাবাজদের মৌলবাদী বলতে চাইছেন, নাকি পুরো বাংলাদেশকেই মৌলবাদের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন?

কারণ, সালমান মুক্তাদির নিজেই জানিয়েছেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই হামলা হয়েছে এবং তিনি এর পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ইঙ্গিত করেছেন। পাশাপাশি, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও বলা হয়েছে, স্টুডিওর ভবনের মালিকের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই ভাঙচুর। এখানে ধর্মীয় মৌলবাদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কলকাতার একজন সাংবাদিকের এমন মন্তব্যকে স্থানীয় চাঁদাবাজি বা জমিজমার বিরোধকে ‘মৌলবাদ’ ট্যাগ দিয়ে দেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের একটি অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতে যে রাজনৈতিক সমীকরণ বা ‘মৌলবাদ’ নিয়ে ভয়াবহতা চলছে, বাংলাদেশেও তা প্রমাণের জন্য একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে কতটা মানানসই, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।