মার্কিন প্রশাসনের ডেপুটি হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনকালে আইনি দায় থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে না।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক উইল কেইন এক সাক্ষাৎকারে মিলারকে জিজ্ঞাসা করেন— যদি ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেবি প্রিটজকার আইস কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন, তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ কী আইনি ক্ষমতায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে? জবাবে মিলার বলেন, “সব আইস কর্মকর্তাকে জানাচ্ছি— আপনারা দায়িত্ব পালনের সময় ফেডারেল ইমিউনিটি ভোগ করেন। কেউ যদি আপনাদের বাধা দেয় বা থামাতে চেষ্টা করে, সে অপরাধ করছে।”
তিনি আরও বলেন, এই নিয়ম যেকোনো স্থানীয় বা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা ফেডারেল আইনপ্রয়োগে বাধা দেয়।
এর আগের দিন, ইলিনয়ের গভর্নর প্রিটজকার একটি নির্বাহী আদেশে “ইলিনয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিশন” গঠনের ঘোষণা দেন, যা ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকাণ্ড নথিভুক্ত করবে এবং প্রয়োজনে তদন্তের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। শিকাগোতে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ইতোমধ্যে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রিটজকার বলেন, “ফেডারেল কর্মকর্তারা সাধারণত ফেডারেল ইমিউনিটি পান, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তারা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেডারেল কর্মকর্তা বা আইনপ্রয়োগকারী সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় কিছু আইনি সুরক্ষা পান, তবে তারা যদি ফেডারেল বা অঙ্গরাজ্যের আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব।
উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী ব্রায়না গডার লিখেছেন, “ফেডারেল কর্মকর্তারা এমন নয় যে তারা অঙ্গরাজ্যের আইনি বিচারের বাইরে। দায়িত্বে থাকলেও তারা অপরাধ করলে মামলা হতে পারে।”
হোয়াইট হাউস অবশ্য বিচার বিভাগের উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চের এক চিঠির উদ্ধৃতি দেয়, যেখানে বলা হয়— “ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালে গ্রেপ্তার করা বেআইনি এবং নিষ্ফল।”
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সংবিধানের “সুপ্রিমেসি ক্লজ” অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা সীমিত করলেও তা ফেডারেল কর্মকর্তাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইমিউনিটি দেয় না।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধান বিশেষজ্ঞ স্টিভ ভ্লাডেক বলেন, “মিলারের বক্তব্য সরাসরি ভুল। অঙ্গরাজ্যের পুলিশ যদি যথাযথ প্রমাণ পায় যে কেউ অপরাধ করেছে, তবে তারা তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে— এমনকি সে ফেডারেল কর্মকর্তা হলেও।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ফেডারেল ইমিউনিটি মানে এটা নয় যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে। আদালত দেখবে কর্মকর্তার কাজটি তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল কি না।”
গত বছর এক মার্কিন কাস্টমস কর্মকর্তাকে সীমান্তে দুই অভিবাসীর ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১০ সালে সীমান্তে এক কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনাতেও বিচার বিভাগ তদন্ত করে।
অন্যদিকে, শিকাগোতে কয়েকটি নাগরিক সংগঠন আইস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, অভিযোগ— “প্রেস ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অতি মাত্রায় বলপ্রয়োগ ও সহিংস আচরণ।” এ মামলায় আদালত নির্দেশ দিয়েছে, জনগণ হুমকি না দিলে আইস কর্মকর্তারা টিয়ার গ্যাস বা রায়ট কন্ট্রোল অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না, বরং আগে সতর্কবার্তা দিতে হবে।
আইনের ইতিহাসে দেখা যায়, ১৮৯০ সালে এক মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল— যদি ফেডারেল কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নেন, তবে তাকে অঙ্গরাজ্য আদালতে অভিযুক্ত করা যাবে না। তবে এই সুরক্ষা সীমিত— দায়িত্বের অপব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ গডার বলেন, “সুপ্রিমেসি ক্লজ ইমিউনিটি কর্মকর্তাদের আংশিক সুরক্ষা দেয়, তবে এটি সম্পূর্ণ নয়।”
সবশেষে, ফ্যাক্টচেক অনুযায়ী মিলারের দাবি আংশিক সত্য হলেও বিভ্রান্তিকর। আইস কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কিছু আইনি সুরক্ষা পান, কিন্তু তারা আইনের ঊর্ধ্বে নন। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য উভয় পর্যায়েই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব।
ফ্যাক্টচেকের সিদ্ধান্ত— মিলারের বক্তব্য “মূলত মিথ্যা”।















