গত ত্রিশ বছরে চীনের শক্তিশালী অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্য পরিবর্তন করেছে। উনিশশো নব্বই সালে চীনের অর্থনীতি ভারতের সমান ছিল, আর যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ছোট। বর্তমানে চীনের জিডিপি প্রায় চৌদ্দ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ভারতের চেয়ে পাঁচগুণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। অর্থনীতির এই বিস্তারের কারণে চীন সামরিক খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে পেরেছে, যার ফলে স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী আধুনিকায়ন করেছে।
এই শক্তি ভারসাম্যের পরিবর্তন চীনের ভারতের ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে অস্থির করেছে। চীন এখন আগের সমমর্যাদা সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর জন্য চীন কৌশলগত রাস্তা ও বন্দর নির্মাণ করছে, যেমন বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে নৌ ও স্থল সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন ধরনের মহাশক্তি সম্পর্ক গড়তে চায়, যেখানে প্রতিটি দেশের নিজস্ব অঞ্চলের স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। চীনের লক্ষ্য হলো এশিয়ায় প্রাধান্য নিশ্চিত করা, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ সীমিত হয়। এতে চীনের হেজিমনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিস্তৃত হতে পারে।
নতুন শীতল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যেখানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিরোধপূর্ণ। গত দশকে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে, এশিয়ান মিত্রদের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করেছে এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
ভারতকে নতুন শীতল যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও, চীনের প্রতিবেশী হওয়ায় ভারত নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ান মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। চীনের ভারতীয় সীমান্তে সামরিক দখল ভারতের নীতিগুলোকে আরও শক্তিশালীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করছে।
উপসংহারে, চীন-ভারতের মধ্যে শক্তি ভারসাম্যের পরিবর্তন সম্পর্ককে অস্থির করেছে। দুই দেশের স্বার্থের সংঘর্ষ দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরও সংকট সৃষ্টি করবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নতুন শীতল যুদ্ধের প্যাটার্ন নির্ধারণ করবে। সফলতার চাবিকাঠি হলো জাতীয় সম্পদ, কূটনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক মতামতকে শক্তিশালী করা, যাতে চীনের সাম্যবাদী সাম্রাজ্যবাদ প্রতিরোধ করা যায়।
















