এই ঘটনায় আগেই ফয়সাল কিরম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে STF।
সীমান্ত পারাপারের হোতা ফিলিপ সাংমা আটক; ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মিলল দালালের সন্ধান
বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আলোচিত ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে নদীয়া জেলার শান্তিপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে ফিলিপ সাংমা নামে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই তৃতীয় গ্রেপ্তার সম্ভব হলো।
গোয়েন্দাদের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ফিলিপ সাংমা একজন পেশাদার দালাল এবং তিনি টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধ পারাপার চক্রের অন্যতম মূলহোতা। হাদি হত্যার পর খুনিদের সীমান্ত পার করে ভারতে সেফ হাউসে রাখার পেছনে ফিলিপের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলে নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সূত্র।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরীর পুরোনো পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে হাদির ওপর রিকশায় থাকা অবস্থায় যে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়, তার পরপরই বাংলাদেশ পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান এড়াতে অভিযুক্তরা ভারতের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেয়।
ফিলিপ সাংমা এই খুনিদের সীমান্ত পার করতে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেও সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আত্মগোপন করেন। সম্প্রতি ফয়সাল ও আলমগীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফিলিপ পুনরায় বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তবে এসটিএফ-এর গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে শান্তিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে হাতে-নাতে আটক করা হয়। ফিলিপের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনে হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সাথে বেশ কিছু এনক্রিপ্টেড বার্তা ও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে এসটিএফ।
বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও লড়াকু এই ছাত্রনেতার মৃত্যু সারা দেশে যে উত্তাপ সৃষ্টি করেছিল, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তার বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার হলো। ঢাকা ও কলকাতার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ফলেই একে একে আসামিরা ধরা পড়ছে।
বর্তমানে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার (এক্সট্রাডিশন) আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এই গ্রেপ্তারের ফলে হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা উদঘাটন করা তদন্তকারীদের জন্য আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, হাদির মাথার খুলি ভেদ করা সেই বুলেটের ব্যালিস্টিক রিপোর্ট এবং ধৃতদের বয়ান মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট তৈরির কাজ করছে ঢাকার ডিবি পুলিশ।
















