বাতাসে ভেসে আসা বেলুন—দেখতে শান্ত, কিন্তু লিথুয়ানিয়ার আকাশে তারা এখন আতঙ্কের প্রতীক। সেই বেলুনেই ভেসে আসে অবৈধ সিগারেট, আসে এক অদৃশ্য সংঘাতের বার্তা। প্রতিবেশী বেলারুশের দিক থেকে উড়ে আসা এই বেলুনগুলো যেন ইউরোপের সীমান্তে নতুন এক ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’-এর আভাস দিচ্ছে।
লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইনগা রুগিনিয়েনে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন—দেশটি এখন থেকে এসব বেলুন গুলি করে নামাবে এবং বেলারুশ সীমান্তের ক্রসিংগুলো বন্ধ করবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক ও কূটনীতিকদের জন্য সীমিত চলাচল খোলা থাকবে।
তিনি বলেন, “আমরা আজ সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এর বাইরে আর কোনো পথ নেই।”
গত সপ্তাহে বারবার বেলুনের অনুপ্রবেশে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াস বিমানবন্দর চারবার বন্ধ রাখতে হয়েছিল। প্রতিবারই সীমান্ত অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়। রুগিনিয়েনে এসব ঘটনাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘হাইব্রিড আক্রমণ’ হিসেবে।
তিনি জানিয়েছেন, বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি ন্যাটোর আর্টিকেল ৪ সক্রিয় করার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে—যেখানে কোনো সদস্য রাষ্ট্র তার ভূখণ্ড, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে যৌথ পরামর্শ চাইতে পারে।
ইউরোপের আকাশ সম্প্রতি নানা ধরনের ড্রোন ও অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে। কোপেনহেগেন, মিউনিখ ও বাল্টিক অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতেও এ ধরনের ঘটনার ফলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
লিথুয়ানিয়া বলছে, এসব বেলুন আসলে বেলারুশ থেকে চোরাচালানিদের পাঠানো, যেগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে অবৈধ সিগারেট আনতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দেশটির অভিযোগ, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো—রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র—ইচ্ছাকৃতভাবেই এসব কার্যক্রম বন্ধ করছেন না।
অন্যদিকে নির্বাসিত বেলারুশ বিরোধী নেত্রী সভিয়াতলানা তিখানউস্কায়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এই বেলুন ঘটনা প্রমাণ করছে, লুকাশেঙ্কো সরকার সিগারেট চোরাচালানকেও ইউরোপবিরোধী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।”
এদিকে বৃহস্পতিবার লিথুয়ানিয়া জানিয়েছে, দুটি রুশ সামরিক বিমান তাদের আকাশসীমায় ১৮ সেকেন্ড প্রবেশ করেছিল। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ন্যাটো বাহিনীর সহায়তা চেয়েছে। যদিও রাশিয়া ঘটনাটি অস্বীকার করেছে।
লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্টুটিস বুদ্রিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এই ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন অনুপ্রবেশ নয়—এগুলো পরিকল্পিত উস্কানি, যা ন্যাটোর মনোবল ও ঐক্য পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।”
আকাশে ভেসে থাকা কয়েকটি বেলুন আজ যেন পুরো ইউরোপের উত্তেজনার প্রতীক—সীমান্তে কাঁটাতার, আকাশে উত্তেজনা, আর কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ঝুলে থাকা এক অদৃশ্য প্রশ্নচিহ্ন।
















