আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা রবিবার এক গঠনমূলক বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, এই বৈঠক সেটি প্রশমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকের পর লুলা একে “দারুণ” বলে মন্তব্য করেন এবং জানান, উভয় দেশের আলোচনাকারী দল অবিলম্বে কাজ শুরু করবে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সমস্যার সমাধানে।
লুলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমরা সম্মত হয়েছি যে আমাদের দলগুলো দ্রুত বৈঠক করে ব্রাজিলীয় কর্তৃপক্ষের ওপর আরোপিত শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুর সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে।”
ট্রাম্প এর আগে জুলাইয়ে ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেন, যা তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর বিরুদ্ধে ‘উইচ হান্ট’-এর প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থান চেষ্টার দায়ে বোলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তার সমর্থকরা রাজধানীর রাজনৈতিক কেন্দ্রে সহিংসতা ঘটায়, যা ২০২১ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্প সমর্থকদের দাঙ্গার স্মৃতি ফিরিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার বোলসোনারোর বিচার তত্ত্বাবধানকারী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক আলেক্সান্দ্রে দে মোরাসসহ কয়েকজন ব্রাজিলীয় কর্মকর্তার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, তিনি লুলার সঙ্গে “উভয় দেশের জন্যই ভালো কিছু চুক্তি” করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তার ভাষায়, “আমার মনে হয় আমরা উভয় দেশের জন্য বেশ কিছু ভালো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।”
লুলা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধিকে “ভুল সিদ্ধান্ত” বলে মন্তব্য করেন, উল্লেখ করে যে গত ১৫ বছরে ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে ৪১০ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা বলেন, আলোচনাগুলো এখনই শুরু হবে এবং আলোচনার সময় শুল্ক কার্যকর না রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র সে বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শুল্ক কাঠামোর প্রতিটি খাতের বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
ভিয়েরা আরও জানান, লুলা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে ওয়াশিংটন তার বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে এবং কারাকাসে কথিত মাদকচক্রবিরোধী হামলার হুমকি দিয়েছে, যা ভেনেজুয়েলা “অজুহাতস্বরূপ যুদ্ধ প্রস্তুতি” বলে অভিহিত করেছে।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী সচিব মার্সিও রোসা জানান, ট্রাম্প-লুলা বৈঠকে বোলসোনারোর নাম ওঠেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের কারণে ব্রাজিলীয় পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে গরুর মাংসের দাম যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে, এবং মেক্সিকোর মতো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বাণিজ্য ঘুরপথে চলছে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের চীনে রপ্তানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
















