ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ক্লড-এর ব্যবহার ঘিরে বিতর্ক
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘ক্লড’ ব্যবহারের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ও পেন্টাগনের মধ্যে গভীর মতবিরোধ সামনে এসেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিমান হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনী এনথ্রোপিক-এর এআই মডেল ‘ক্লড’ ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও এক্সিওস। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই হামলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনথ্রোপিককে ‘উগ্র বামপন্থী’ আখ্যা দিয়ে সরকারি পর্যায়ে এর ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।
পেন্টাগনের দাবি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নির্ভুল লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সিমুলেশন তৈরিতে এই প্রযুক্তি অপরিহার্য ছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে এই পদক্ষেপ সরাসরি সাংঘর্ষিক হওয়ায় ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার একটি সামরিক অভিযানে ক্লড-এর ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। এনথ্রোপিক তখন অভিযোগ করেছিল যে, তাদের প্রযুক্তি সহিংসতা বা নজরদারির কাজে ব্যবহার করা চুক্তির পরিপন্থী। এর জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কোম্পানিটিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সামরিক কাজে এআই প্রযুক্তির ওপর সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতের ওপর জোর দেন।
পেন্টাগনকে এই প্রযুক্তি সরিয়ে ফেলার জন্য ছয় মাসের সময় দেওয়া হলেও বর্তমান ইরান অভিযানে এর ব্যবহার থামেনি। এদিকে এনথ্রোপিক-এর বিকল্প হিসেবে স্যাম অল্টম্যানের ‘ওপেনএআই’ পেন্টাগনের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে, যা সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি যুদ্ধের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।
















