হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে এলএনজি সরবরাহে বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার জেরে বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এর সরাসরি প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পরিবহন ব্যাহত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
বর্তমানে দেশে দৈনিক চাহিদার একটি বড় অংশ কাতার ও ওমান থেকে আসা আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় আসা বেশিরভাগ এলএনজি এই প্রণালি দিয়েই আসে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আসা কিছু কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা শিল্প-কারখানার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে।
জ্বালানি তেল নিয়ে বিপিসি আপাতত স্বস্তির কথা জানালেও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান জানান, আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে ২০ দিনের মজুত রয়েছে। তবে সৌদি আরব বা আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আমদানি ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে। শিল্প উদ্যোক্তারা দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন, যাতে উৎপাদন ও রপ্তানি আয় সচল থাকে।
















