সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে খেজুর রাখা কেবল ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ নয়, এটি বৈজ্ঞানিকভাবেও অত্যন্ত কার্যকরী। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি দ্রুত ফিরিয়ে আনতে খেজুরের কোনো বিকল্প নেই।
১. দ্রুত শক্তির জোগান (Instant Energy): সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, ফলে ক্লান্তি অনুভব হয়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ) থাকায় এটি খাওয়ার সাথে সাথে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে তাৎক্ষণিক জ্বালানি বা শক্তি সরবরাহ করে।
২. ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স ও আর্দ্রতা রক্ষা: খেজুর একটি শুকনো ফল হলেও এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরের কোষগুলোতে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি অনেকটা পানির জন্য চুম্বকের মতো কাজ করে, যা দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক।
৩. হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর: রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ পেট খালি থাকার ফলে অনেকের হজমে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। খেজুর ফাইবারের (আঁশ) একটি চমৎকার উৎস। এটি অন্ত্রের বর্জ্য অপসারণ সহজ করে এবং পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটির সমস্যা কমিয়ে হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
৪. পুষ্টির পাওয়ার হাউস: খেজুরে রয়েছে শরীর গঠনের প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন ও খনিজ। এটি ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রণ সমৃদ্ধ। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৫. জটিল কার্বোহাইড্রেটের উৎস: খেজুরে সহজ শর্করার পাশাপাশি জটিল কার্বোহাইড্রেটও থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘক্ষণ স্থিতিশীল রাখে এবং ইফতারের পর অতিরিক্ত ক্ষুধা বা দুর্বলতা অনুভব হতে দেয় না।
















