সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে লোকসানের শঙ্কা, কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ
বোরো মৌসুমের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সারের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, ফলে অনেক কৃষক বোরো আবাদ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
সেচনির্ভর বোরো ধান আবাদে সুষম সার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে কৃষকদের বড় অংশকে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এতে সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরির খরচ যোগ হয়ে লাভের সম্ভাবনা কমে গেছে।
যশোরে কৃষকের হতাশা
যশোর সদর উপজেলার ধোপাখোলা গ্রামের কৃষক মোস্তফা পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। রোপণের এক মাস পর জমিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও দস্তা সার প্রয়োগের সময় তিনি বলেন,
“প্রতি বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকায়, ডিএপি ১ হাজার ২৫০ টাকায়। এত খরচ দিয়ে এখন আর বোরো চাষে তেমন লাভ থাকে না।”
পাশের জমিতে কাজ করা আরেক কৃষক চান্নু মিয়া বলেন,
“দেশে যত সিন্ডিকেট, সব চাষীদের ঘাড়েই। সরকারি দাম ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও ডিএপি কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ টাকায়।”
সরকারি হিসেবে ইউরিয়া সারের প্রতি কেজি মূল্য ২৭ টাকা ও ডিএপি ২১ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাজারে তা যথাক্রমে ২৯ ও ২৫ টাকা পর্যন্ত গড়াচ্ছে বলে কৃষকদের অভিযোগ।
সিরাজগঞ্জেও একই চিত্র
একই অবস্থা দেখা গেছে সিরাজগঞ্জ জেলাতেও। সেখানে এ বছর ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ হাজার হেক্টরে চারা রোপণ শেষ হলেও মৌসুমের শুরুতেই ডিলারদের বিরুদ্ধে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বোরো মৌসুমে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৫৬ হাজার ৩৭০ টন। প্রয়োজনীয় সার সরবরাহে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ডিলারদের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী গোপনে সার মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন,
“সরকার কৃষকদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সার দিচ্ছে। কোনো কারসাজি হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার সংকট নেই।”
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান,
“সার নিয়ে অনিয়ম প্রমাণিত হলে জরিমানাসহ ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।”
কৃষকদের শঙ্কা
কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার না পেলে বোরো উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে শুধু কৃষক নয়, সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
















