উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় মোটরসাইকেলে করে আসা বন্দুকধারীদের ভোরের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলাকারীরা গুলি ও গলা কেটে হত্যা করে, বাড়িঘরে আগুন দেয় এবং অনির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
নাইজার অঙ্গরাজ্যের তিনটি গ্রামে শনিবার সকালে এই হামলা চালানো হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের আরেকটি হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনার কাছাকাছি এলাকাতেই সর্বশেষ এই নৃশংসতা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, টুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে ছয়জন নিহত হন। কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং কতজনকে অপহরণ করা হয়েছে তা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।
প্রতিবেশী কনকোসো গ্রামে হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় সব বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং চার নারীকে অপহরণ করা হয়। এরপর হামলাকারীরা পিসা গ্রামে গিয়ে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেয় এবং একজনকে হত্যা করে।
বার্তা সংস্থাগুলোর খবরে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে প্রায় ৩২ জন, আবার কোথাও অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামে হামলার খবর মিললেও বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়।
একটি নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা ৪১টি মোটরসাইকেলে করে আসে, প্রতিটিতে দুই থেকে তিনজন করে সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল।
নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী চক্র, যাদের স্থানীয়ভাবে ডাকাত দল বলা হয়, হামলা ও অপহরণ চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এসব হামলা বেড়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমে জঙ্গিগোষ্ঠী এবং দক্ষিণ-পূর্বে বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলের সোকোতো অঙ্গরাজ্যে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে হামলা চালায় এবং ভবিষ্যতেও আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দেয়। তবে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, এসব সহিংসতার শিকারদের বড় অংশই মুসলিম নাগরিক।
















