৯৬ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের সীমা ১ হাজার টাকা নির্ধারণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থের লেনদেন ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এজেন্ট পয়েন্ট থেকে টাকা পাঠানো ও ক্যাশ আউট সীমিত হয়ে পড়ায় নগদ অর্থের প্রয়োজনে এটিএম বুথগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিল, গোপীবাগ, মানিকনগর ও রামপুরাইসহ বিভিন্ন এলাকার এটিএম বুথগুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বুথে ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। গ্রাহকদের অভিযোগ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ির কারণে দৈনন্দিন খরচ ও জরুরি প্রয়োজনে তারা নগদ টাকা তুলতে পারছেন না। সাধারণ সময়ে এমএফএস-এ বড় অঙ্কের লেনদেন করা গেলেও এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (মোট ৯৬ ঘণ্টা) এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে:
- এমএফএস লেনদেন সীমা: বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকার বেশি পাঠানো যাবে না। দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেনের মাধ্যমে মোট ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে।
- ইন্টারনেট ব্যাংকিং: পি-টু-পি (P2P) বা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের (IBFT) মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
- সচল সেবা: তবে কেনাকাটার মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ইউটিলিটি বিল (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
- এটিএম ও চেক: ব্যাংক শাখা ও এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা উত্তোলন স্বাভাবিক থাকবে, তবে অস্বাভাবিক লেনদেনের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে টাকার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্তে প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানে ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠন করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে লেনদেনের সীমা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
















