মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন আইল্যান্ডসের কংগ্রেস প্রতিনিধি স্টেসি প্লাসকেটের এক সহযোগী কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টাইনের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন, যাতে সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারের সঙ্গে একটি বৈঠক আয়োজন করা যায়।
নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ক্যারিবীয় অঞ্চলে পরপর দুটি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর ত্রাণ সহায়তা আদায়ের লক্ষ্যে শুমারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছিলেন প্লাসকেট। সে সময় শুমার মূলত পুয়ের্তো রিকোর দুর্যোগ সহায়তা নিয়েই আলোচনা করছিলেন, ভার্জিন আইল্যান্ডস উপেক্ষিত হয়ে পড়বে—এই আশঙ্কা থেকেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়।
২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি ভার্জিন আইল্যান্ডসের এক কর আইনজীবী এরিকা কেলারহালস এপস্টাইনকে ইমেইলে লেখেন, প্লাসকেটের জন্য শুমারের সঙ্গে বৈঠক নিশ্চিত করতে কী করা যায়। জবাবে এপস্টাইন জানান, বিষয়টি সমস্যা হওয়ার কথা নয়, তবে বৈঠকের কারণ ও বিষয়বস্তু জানতে চান।
পরবর্তী ইমেইলে কেলারহালস জানান, শুমারের সঙ্গে বৈঠক নিশ্চিত করতে প্লাসকেট ব্যর্থ হচ্ছেন এবং তিনি আশঙ্কা করছেন, ভার্জিন আইল্যান্ডসের বিষয়টি গুরুত্ব না-ও পেতে পারে।
এই বার্তা আদান-প্রদানের পর এপস্টাইন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রধান আইন উপদেষ্টা ক্যাথি রুমলারকে ইমেইল পাঠান। সেখানে তিনি জানান, ভার্জিন আইল্যান্ডসের প্রতিনিধি শুমারের সঙ্গে বৈঠক পাচ্ছেন না এবং তিনি কি এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন। রুমলার জবাবে বলেন, শুমারের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে তার চিফ অব স্টাফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করবেন।
এপস্টাইনের সঙ্গে এই ইমেইল বিনিময় সম্প্রতি প্রকাশিত প্রায় ৩৫ লাখ নথির অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের এপস্টাইন তদন্তসংক্রান্ত। যৌন পাচারের মামলায় বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে এপস্টাইনের কারাগারে মৃত্যু হয়।
নথিতে স্পষ্ট নয়, শেষ পর্যন্ত শুমার ও প্লাসকেটের বৈঠক হয়েছিল কি না। তবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেসে পাস হওয়া দুই বছরের বাজেট প্যাকেজের অংশ হিসেবে ভার্জিন আইল্যান্ডস জরুরি তহবিল পেয়েছিল।
শুমার, প্লাসকেট ও কেলারহালস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। ক্যাথি রুমলারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি।
এই ইমেইল বিনিময় নতুন করে আলোচনায় এনেছে, ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কীভাবে এপস্টাইন রাজনীতি ও ব্যবসার উচ্চপর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে গেছেন।
স্টেসি প্লাসকেটের সঙ্গে এপস্টাইনের সম্পর্ক অতীতেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ২০১৯ সালে কংগ্রেসের এক শুনানিতে এপস্টাইন তাকে বার্তার মাধ্যমে পরামর্শ দিয়েছিলেন—এমন তথ্য প্রকাশের পর গত বছর তিনি অল্পের জন্য কংগ্রেসের তিরস্কার এড়ান। পরে এপস্টাইন গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্লাসকেট জানান, তিনি এপস্টাইন ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করবেন।
যদিও প্লাসকেট কংগ্রেসে ভোটাধিকারহীন সদস্য, তবুও তিনি বিতর্কে অংশ নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কমিটির সদস্য। তিনি আগে এপস্টাইনকে “দানব” বলে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, তার বিকৃত আচরণে তিনি ঘৃণিত ও ক্ষুব্ধ।
















