এয়ার ইন্ডিয়া তাদের বহরে থাকা একটি বোয়িং সাত আট সাত–আট ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড করেছে। উড়োজাহাজটির এক পাইলট জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচে সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, বিষয়টি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পাইলটের উদ্বেগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বোয়িংয়ের এক মুখপাত্র জানান, তারা এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনায় সহযোগিতা করছেন।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গত বছরের জুনে একই মডেলের একটি এয়ার ইন্ডিয়া উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় দুই শত ষাট জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এয়ার ইন্ডিয়া কোন ফ্লাইটে বা ঠিক কী ধরনের ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। তবে সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, লন্ডন থেকে উড্ডয়নের পর দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবতরণের পর পাইলট এই ত্রুটির বিষয়টি নজরে আনেন।
গত বছরের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং সাত আট সাত–আট উড়োজাহাজটি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়।
ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো ওই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে এবং কয়েক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের পরপরই উড়োজাহাজটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, কারণ জ্বালানি সুইচ চালু অবস্থা থেকে বন্ধ অবস্থায় চলে গিয়েছিল। তবে কীভাবে এটি ঘটেছিল, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছিল, বোয়িং উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ নিরাপদ। একই সঙ্গে ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও দেশে পরিচালিত বোয়িং সাত আট সাত এবং সাত তিন সাত উড়োজাহাজের ককপিটে ব্যবহৃত জ্বালানি সুইচ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়।
এয়ার ইন্ডিয়া তখন জানায়, তাদের পরীক্ষায় সুইচের লকিং ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। সোমবারের বিবৃতিতেও সংস্থাটি একই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে জানায়, তাদের বহরের সব বোয়িং সাত আট সাত উড়োজাহাজে করা পরীক্ষায় কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি।
















