নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেট্টে-মারিটের ছেলে মারিয়ুস বর্গ হইবির বিরুদ্ধে বহু আলোচিত মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ওসলো জেলা আদালতে শুরু হওয়া এই বিচারকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় ও সংবেদনশীল মামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিচার শুরুর সময়টি নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য বিশেষভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।
প্রায় দেড় বছর আগে ওসলোতে এক নারীর বাসায় সহিংস ঘটনার অভিযোগে মারিয়ুস বর্গ হইবিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এবার সাত সপ্তাহব্যাপী বিচার শুরুর ঠিক আগের দিনই তিনি আবারও আটক হন। পুলিশ জানিয়েছে, ছুরি দিয়ে হুমকি দেওয়া, শারীরিক হামলা এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। আদালতের আদেশে তাকে চার সপ্তাহের জন্য রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে, ফলে তিনি কারাগার থেকেই বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। তার আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিচার চলাকালে আদালতে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মারিয়ুসের কোনো ছবি প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মামলার সঙ্গে জড়িত চার নারীর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। এই কারণে রাজপরিবারের কেউই আদালতে উপস্থিত থাকবেন না বলে জানানো হয়েছে।
মারিয়ুস বর্গ হইবি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎপুত্র হলেও তিনি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এবং কোনো সরকারি ভূমিকা পালন করেন না। তবে এই মামলার কারণে তার মা ক্রাউন প্রিন্সেস মেট্টে-মারিটও প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকশ ইমেইলে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য উঠে আসে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি ভুল সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করলেও ইতোমধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব শুরু হয়েছে। একটি সংগঠন তাকে তাদের বার্ষিক পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষক পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
মারিয়ুসের বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অচেতন অবস্থায় নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, একাধিক নারীর ওপর যৌন নিপীড়ন, অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর আচরণ ও ভিডিও ধারণ, শারীরিক ক্ষতি করা, সঙ্গী বা সাবেক সঙ্গীর ওপর হুমকি ও সহিংসতা, নিষেধাজ্ঞা অমান্য, মাদক পরিবহন এবং দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার অন্তত ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মারিয়ুস অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, বিশেষ করে যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতার অভিযোগ। তবে কিছু ছোটখাটো অপরাধের দায় তিনি স্বীকার করেছেন।
এই মামলার পাশাপাশি ক্রাউন প্রিন্সেসের ইমেইল কেলেঙ্কারি নরওয়েজিয়ান রাজপরিবারের ভাবমূর্তিকে আরও চাপে ফেলেছে। রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, ক্রাউন প্রিন্সেসের উচিত তার যোগাযোগের পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেলেঙ্কারি দীর্ঘদিন ধরে নরওয়ের রাজপরিবারকে তাড়া করবে। যদিও এখনো দেশটির অধিকাংশ মানুষ রাজতন্ত্রের পক্ষে রয়েছে, তবুও এই ঘটনাকে রাজপরিবারের জন্য একটি বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















