যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগত খনিজ মজুত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ নামে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ঘাটতির কারণে যেন মার্কিন ব্যবসা ও শ্রমিকরা কোনো ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বেসরকারি খাতের ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি–আমদানি ব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। এই মজুত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য যেমন সেমিকন্ডাক্টর চিপ, স্মার্টফোন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে যে বিরল খনিজ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কারণ আলোচনার সময় চীন অতীতে খনিজ রপ্তানি সীমিত করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই খাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার একাধিক বিনিয়োগ করেছে। ২০২৫ সালে সাতটি প্রতিষ্ঠানে শেয়ার কিনেছে সরকার, যেখানে আগের সরকারি অনুদানকে মালিকানায় রূপান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ ও চুম্বক উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো।
এছাড়া টেনেসিতে একটি বৃহৎ ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য একটি দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। আলাস্কা ও নেভাদায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলন প্রকল্পেও বিনিয়োগ করা হয়েছে, যেখানে তামা, দস্তা, সোনা, রুপা ও লিথিয়ামের মতো খনিজ উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক যান ও প্রযুক্তি খাতে কাঁচামাল সরবরাহ করবে।
গত বছর দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়াতে একটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে সরকার উল্লেখযোগ্য শেয়ার কিনেছে। একইভাবে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় বিরল খনিজ খনির পরিচালনাকারী কোম্পানিতেও বিনিয়োগ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোম্পানিতে সরাসরি সরকারি মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে খুব সাধারণ নয়, তবে নজির রয়েছে। দুই হাজার আট সালের আর্থিক সংকটের সময় সরকার বড় শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অংশীদারত্ব নিয়েছিল এবং পরে ধীরে ধীরে সেগুলো বিক্রি করে দেয়।
এবারের উদ্যোগটি সেই সংকটকালীন পদক্ষেপের মতো জরুরি নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই বিনিয়োগগুলো দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এবং বেসরকারি পুঁজিকে আকৃষ্ট করার একটি বার্তাও দিচ্ছে সরকার।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই নীতি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আগের প্রশাসন এই খাতে অনুদান দেওয়াকে গুরুত্ব দিলেও বর্তমান প্রশাসন সরাসরি শেয়ার কেনার পথে এগিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করছেন, আবার অন্যদের মতে করদাতাদের অর্থ বিনিয়োগ হলে তার বিপরীতে মালিকানা থাকা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বিরল খনিজের বড় অংশ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ একটি দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ঝুঁকি তৈরি করে। তাই দেশীয়ভাবে খনিজ উত্তোলন ও উৎপাদনে সক্ষমতা গড়ে তোলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
















