ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন প্রয়াত অজিত পাওয়ারের স্ত্রী ও রাজ্যসভার সদস্য সুনেত্রা পাওয়ার। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপি (এসপি) প্রধান ও অজিত পাওয়ারের চাচা শারদ পাওয়ার। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে পাওয়ার পরিবারের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
গত বুধবার পুনের বারামতি বিমানবন্দরে একটি ছোট উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর দলের পক্ষ থেকে দ্রুত উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
নিজেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শারদ পাওয়ার বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তাঁর বক্তব্যে রাজনীতি ও পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে অজিত পাওয়ার তাঁর চাচা শারদ পাওয়ারের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে আলাদা পথ বেছে নেন। সে সময় তাঁর নেতৃত্বাধীন এনসিপির একটি অংশ বিজেপিনেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়।
শারদ পাওয়ার জানান, সুনেত্রা পাওয়ারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথাও তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। বারামতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শপথ গ্রহণের সময়সূচি বা আয়োজন সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই এবং এ বিষয়ে পাওয়ার পরিবারের কেউ অংশ নেবেন কি না, তাও তিনি জানেন না।
এদিকে এনসিপি (এসপি) নেতা অঙ্কুশ কাকাদে জানান, অজিত পাওয়ার তাঁর জীবদ্দশায় দুই বিভক্ত এনসিপিকে আবার একত্র করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন শারদ পাওয়ারের জন্মদিনে এই পুনর্মিলন ঘটাতে। এ উদ্দেশ্যে কাকাদে ছাড়াও কয়েকজন প্রবীণ নেতাকে মধ্যস্থতার অনুরোধ করেছিলেন অজিত পাওয়ার।
কাকাদে বলেন, অজিত পাওয়ার আশা করেছিলেন নির্বাচনের পর দুই পক্ষ আবার এক হবে। তবে আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ করে যেতে পারেননি তিনি।
দুই এনসিপির সম্ভাব্য একীভূতকরণ প্রসঙ্গে শারদ পাওয়ার বলেন, এ বিষয়ে আলোচনায় অজিত পাওয়ার ও জয়ন্ত পাতিল উপস্থিত ছিলেন। এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জয়ন্ত পাতিলের ওপর থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার মুম্বাই থেকে বারামতির উদ্দেশে যাত্রাকালে একটি বেসরকারি মালিকানাধীন ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই উড়োজাহাজে অজিত পাওয়ার ছাড়াও পাইলট, সহ-পাইলট, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও এক বিমানবালা ছিলেন। দুর্ঘটনায় পাঁচজনই নিহত হন।
















