ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেওয়ায় পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা। সাবেক বিশ্বকাপজয়ী পেসার মদন লাল বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আসলে নিজেদের ক্রিকেটেরই ক্ষতি করছে। একই সঙ্গে কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মদন লাল বলেন, পাকিস্তান সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সমস্যার সমাধান আনবে না। বরং এর ফল ভোগ করতে হবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—উভয় দেশকেই। তাঁর মতে, অন্য দেশকে সমর্থন করা পাকিস্তানের নিজস্ব বিষয় হলেও এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের ওপরই পড়বে।
এক সাক্ষাৎকারে মদন লাল বলেন, পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড সঠিকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ না করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তানের অবস্থান আরও দুর্বল হবে। তিনি আরও বলেন, আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে বিজ্ঞাপনদাতা ও দর্শকদের আগ্রহ থাকলেও, এই ম্যাচ না হলে তারা নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোর দিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।
এদিকে সুনীল গাভাস্কার মনে করেন, টুর্নামেন্টের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া বড় সমস্যা। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে আইসিসির হস্তক্ষেপ করা উচিত। তিনি বলেন, আইসিসি এমন পদক্ষেপ নিক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দল এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস না পায়।
গাভাস্কার আরও জানান, ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি চাইলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আইনি পথেও হাঁটতে পারে। যদিও সেই পদক্ষেপের ফল কী হবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে এই ঘটনায় আইসিসি যে অসন্তুষ্ট, তা স্পষ্ট।
অন্য এক সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার পাকিস্তানের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হলে পাকিস্তান সরকার ও বোর্ড তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। অতীতেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অবসর ঘোষণা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলের নজির রয়েছে।
গাভাস্কারের মতে, পাকিস্তানের সমর্থকরাও সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
উল্লেখ্য, ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি। এর আগে নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেই সিদ্ধান্তকে দ্বিচারিতা বলে সমালোচনা করে পাকিস্তান, যার ধারাবাহিকতায় এবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে তারা।
















