ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে খনি শ্রমিক বহনকারী একটি বাসে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। এতে আরও সাতজন আহত হয়েছে বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
রোববার টেলিগ্রামে জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল জানান, দিনিপ্রো অঞ্চলে জ্বালানি খাতের কর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই হামলায় ১২ জন খনি শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং সাতজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাটি দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের তেরনিভকা শহরে ঘটে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা সংস্থার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জানালা ভাঙা ও আগুনে পোড়া একটি বাস সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে রয়েছে।
জ্বালানি কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, নিহত ও আহত সবাই তাদের কর্মী ছিলেন এবং কাজ শেষে বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
এর আগে রোববারই আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে একটি মাতৃসদন ও আবাসিক ভবনে রুশ হামলায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন।
এই হামলার ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রচণ্ড শীতের কারণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাময়িকভাবে কিয়েভসহ অন্যান্য শহরে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছেন।
ক্রেমলিন শুক্রবার নিশ্চিত করে জানায়, রোববার পর্যন্ত কিয়েভে হামলা স্থগিত রাখতে তারা সম্মত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হয়। চলতি মাসে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার জানান, আবুধাবিতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
যদিও ওয়াশিংটনের আপস প্রস্তাবে নীতিগতভাবে মস্কো ও কিয়েভ সম্মত হয়েছে, তবে চুক্তির কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হলো, ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলো থেকে রুশ বাহিনী সরে যাবে কি না, বিশেষ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পাঞ্চল দোনবাস এবং এখনো দখল না করা এলাকাগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে।
















