হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার ভোরে একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে নিরাপত্তা টহল গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনায় দুই বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বোয়িং ৭৪৭ মডেলের বিমানটি তুরস্কের মালবাহী সংস্থা ‘এসি টি এয়ারলাইনস’ পরিচালনা করছিল, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এমিরেটসের পক্ষ থেকে পরিচালিত একটি ফ্লাইট ছিল। এ দুর্ঘটনাটি গত ২৫ বছরের মধ্যে হংকংয়ে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমানবন্দর দুর্ঘটনা বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে (রবিবার ১৯৫০ জিএমটি) দুবাই থেকে আসা বিমানটি রানওয়েতে অবতরণের সময় হঠাৎ বাম দিকে ঘুরে যায় এবং টহল গাড়িটিকে আঘাত করে সেটিকে সমুদ্রে ঠেলে দেয়। এ সময় বিমানটিও আংশিকভাবে পানিতে ডুবে যায়। চারজন ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন ইউ জানান, উদ্ধারকর্মীরা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে অচেতন অবস্থায় পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং অপরজন পরে হাসপাতালে মারা যান। নিহত দুই কর্মীর একজন ৭ বছর এবং অপরজন ১২ বছর ধরে বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন।
দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে আবহাওয়া, রানওয়ের অবস্থা, বিমান ও ক্রুদের কার্যক্রমের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ইউ। তিনি বলেন, টহল গাড়িটি রানওয়ের বাইরে নির্ধারিত পথে চলাচল করছিল এবং কোনোভাবেই রানওয়েতে প্রবেশ করেনি। বিমানটি অবতরণের পর হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে গাড়িটিকে আঘাত করে, যা “স্বাভাবিক পথ নয়।”
হংকং এয়ার অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন অথরিটির প্রধান মান কা-চাই জানান, আকাশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিমানটিকে উত্তর রানওয়েতে অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পাইলটের পক্ষ থেকে কোনো বিপদের বার্তা পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর তোলা ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটি আংশিকভাবে সমুদ্রের পানিতে ডুবে আছে এবং জরুরি নির্গমন স্লাইড মোতায়েন করা হয়েছে। বিমানের সামনের ও পেছনের অংশ পৃথক হয়ে গেছে।
এমিরেটস এক বিবৃতিতে জানায়, ফ্লাইট ইকে৯৭৮৮ হংকংয়ে অবতরণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে বিমানে কোনো পণ্য ছিল না এবং ক্রু সদস্যরা সবাই নিরাপদ আছেন। বোয়িং ও অ্যাক্ট এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত বিমানটির বয়স ৩২ বছর। এটি আগে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হতো, পরে মালবাহী হিসেবে রূপান্তর করা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হংকংয়ের বিশ্বের ব্যস্ততম মালবাহী বিমানবন্দরের অন্যান্য রানওয়েতে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। উত্তর রানওয়েটি নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে পুনরায় চালু করা হবে।
এ দুর্ঘটনা ১৯৯৯ সালের পর হংকংয়ে সবচেয়ে মারাত্মক বিমানবন্দর দুর্ঘটনা। ওই বছর চায়না এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে, যেখানে ৩১৫ জন যাত্রীর মধ্যে তিনজন নিহত হয়েছিলেন।
















