যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দেওয়া। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদের কাছে তথ্য রয়েছে, তাদের সেই তথ্য ভাগ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। ভুক্তভোগীদের অগ্রাধিকার দিতে হলে এ ধরনের স্বচ্ছতা জরুরি।
স্টারমারের এই মন্তব্য এসেছে এপস্টেইন-সংক্রান্ত সর্বশেষ নথি প্রকাশের পর, যেখানে এমন কিছু ছবি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যাতে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে মাটিতে শুয়ে থাকা এক অজ্ঞাত নারীর ওপর হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবিগুলোর কোনো প্রেক্ষাপট দেওয়া হয়নি। সাবেক এই রাজপুত্র এ অভিযোগে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি, যদিও তিনি বরাবরই সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
এর আগে গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এপস্টেইন তদন্তের অংশ হিসেবে অ্যান্ড্রুকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন স্টারমার বলেছিলেন, বিষয়টি একান্তই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করে, যা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার ছয় সপ্তাহ পর সামনে আসে। প্রকাশিত ছবিগুলোর কয়েকটিতে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু ওই নারীর পেটের ওপর হাত রেখেছেন, আর আরেকটিতে তিনি সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন। এসব ছবি নিউইয়র্কে এপস্টেইনের বাসভবনের ভেতরের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে যাচাইয়ে উঠে এসেছে।
নতুন এই তথ্য অ্যান্ড্রুর ওপর চাপ আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরেই এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব নিয়ে ব্যাপক তদন্ত ও সমালোচনা চলছে। গত অক্টোবরে তার বিরুদ্ধে বাড়তি প্রশ্ন ওঠার পর রাজকীয় উপাধি ও সম্মাননা কেড়ে নেওয়া হয়।
নথিতে প্রকাশিত আলাদা কিছু ইমেইলে দেখা যায়, ২০১০ সালে এপস্টেইন অ্যান্ড্রুকে ২৬ বছর বয়সী এক রুশ নারীর সঙ্গে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ইমেইল আদান-প্রদানে ওই নারীর বিষয়ে বাড়তি তথ্য জানতে চেয়েছিলেন অ্যান্ড্রু। তবে এসব বার্তায় সরাসরি কোনো অপরাধের প্রমাণ নেই।
একই সঙ্গে নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারাহ ফার্গুসন দীর্ঘ সময় ধরে এপস্টেইনের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন। ২০০৯ সালের কিছু ইমেইলে দেখা যায়, তিনি ব্যবসায়িক ধারণা ও ভাড়ার অর্থ পরিশোধে সহায়তা চেয়েছিলেন। এসব বিষয় নিয়েও মন্তব্যের জন্য সারাহ ফার্গুসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকাশিত নথিতে লর্ড ম্যান্ডেলসনের সঙ্গেও এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্টারমার জানান, নতুন তথ্য প্রকাশের পরই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এ নিয়ে তার আর কিছু বলার নেই।
সর্বশেষ নথি প্রকাশে দুই হাজারের বেশি ভিডিও ও এক লাখ আশি হাজারের বেশি ছবি রয়েছে। এর অনেক অংশই কালো করে আড়াল করা। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সম্পূর্ণ নথি দেখার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, নথিতে কারও নাম বা ছবি থাকা মানেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। এপস্টেইন-সংক্রান্ত আগের প্রকাশনায় যাদের নাম এসেছে, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
















