মোজাম্বিকে দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিস। সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় ২০২১ সালে প্রকল্পটির কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব মোজাম্বিকের গ্যাসসমৃদ্ধ কাবো দেলগাদো প্রদেশের আফুঙ্গি এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক পুনরায় উদ্বোধনের ঘোষণা দেন টোটালএনার্জিসের প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক পুইয়ানে এবং মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল চাপো।
আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম বড় এই গ্যাস প্রকল্পটি ২০২১ সালে স্থগিত করা হয়। সে সময় ইসলামিক স্টেট–সম্পর্কিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা দমনে সরকার ও আঞ্চলিক বাহিনী লড়াই চালাচ্ছিল। গত আট বছরে ওই সংঘাতে ছয় হাজার চার শতাধিক মানুষের প্রাণ গেছে বলে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য।
প্রকল্পটি চালু হলে বছরে এক কোটির বেশি টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৯ সালে উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মোজাম্বিক সরকারের হিসাবে, কর ও অন্যান্য আয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটির পুরো মেয়াদে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব যোগ হতে পারে।
টোটালএনার্জিস জানায়, প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। নির্মাণপর্বে প্রায় সাত হাজার মোজাম্বিক নাগরিকের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় অঙ্কের কাজ দেওয়া হবে।
কাবো দেলগাদো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে আফুঙ্গি এলাকায় রুয়ান্ডার সেনা মোতায়েনের পর। তবে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে প্রকল্পটির অংশীদারদের আর্থিক শর্ত পুনরায় আলোচনা করতে হয়েছে।
পরিবেশ ও মানবাধিকার উদ্বেগ
তবে পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রকল্পটির তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এতে সাধারণ মোজাম্বিকবাসীর খুব একটা উপকার হবে না। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিল।
পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ প্রকল্পটিকে জলবায়ুর জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, প্রকল্পকে ঘিরে হত্যাকাণ্ড, শিরশ্ছেদ এবং পুরো সম্প্রদায়ের বাস্তুচ্যুতির মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
২০২১ সালের হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার টোটালএনার্জিসের বিরুদ্ধে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগে ফ্রান্সে আইনি মামলা করেছে। সেখানে অবহেলার কারণে প্রাণহানির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া জার্মানভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন একটি অভিযোগ দায়ের করেছে, যেখানে কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, নির্যাতন ও গুমে সহায়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে। টোটালএনার্জিস এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
এদিকে প্রকল্পটি পুনরায় শুরুর ঘোষণার আগেই যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, তারা এই প্রকল্প থেকে বড় অঙ্কের রপ্তানি অর্থায়ন প্রত্যাহার করছে।
















