নাইজারের প্রধান বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত বিমান বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে চালানো হামলার দায় স্বীকার করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট।
আইএস-সম্পৃক্ত সংবাদমাধ্যম আমাক জানায়, রাজধানী নিয়ামেয়ের কাছে দিয়োরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা আকস্মিক ও সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
নাইজারের সামরিক সরকার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু পর এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়। এতে চারজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়।
গত এক দশক ধরে নাইজারের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আইএস-ঘনিষ্ঠ সাহেল ইসলামিক স্টেট এবং আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব গোষ্ঠীর হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে তিলাবেরি অঞ্চলে একাধিক হামলায় শতাধিক মানুষ মারা যান। অক্টোবরে এক মার্কিন পাইলট অপহরণের ঘটনাতেও আইএস-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
হামলার পর নাইজারের সামরিক শাসক আবদুরাহামানে তিয়ানি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা রুশ সেনাদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তারা নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। এতে রাশিয়ার সঙ্গে নাইজারের সামরিক সহযোগিতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
একই সঙ্গে তিয়ানি অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্ট জড়িত। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব দেশকে এর জবাব পেতে প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে তিনি অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
বেনিন সরকারের এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।
নিয়ামেয়ের বিমানবন্দরটি প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি নাইজার, বুরকিনা ফাসো ও মালির যৌথ বাহিনীর সদর দপ্তর রয়েছে, যা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে।
এই তিন দেশ বর্তমানে সামরিক শাসনের অধীনে এবং তারা সাহেল রাষ্ট্রগুলোর জোট গঠন করে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে সরে গিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা নিয়ে ফরাসি রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট একটি পারমাণবিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নাইজারের বিরোধ চলমান।
নাইজারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও দাবি করেছে, নিহত হামলাকারীদের একজন ফরাসি নাগরিক ছিল। তবে এ দাবির পক্ষেও কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।
















