বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জারি করা এক ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে চার বছর আগে অভ্যুত্থানের পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত ছিল।
পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে আল-কায়েদা ও আইএস সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা দমনে ব্যর্থতার অভিযোগের মধ্যে সরকার ভিন্নমত দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজনৈতিক দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জারবো জানান, বহুদলীয় ব্যবস্থার নামে দীর্ঘদিন ধরে যে অনিয়ম ও অকার্যকারিতা চলছিল, তা রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত সংখ্যক রাজনৈতিক দল সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ডিক্রি অনুযায়ী, সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অধীনে নেওয়া হবে। অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোতে একশটির বেশি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ছিল। দুই হাজার বিশ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে পনেরটি দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল।
উল্লেখ্য, দেশটির বর্তমান শাসক ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে দুই হাজার বাইশ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্ষমতা দখল করেন। তার আট মাস আগে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রক মার্ক কাবোরের সরকার উৎখাত হয়েছিল।
সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। ভিন্নমত দমনের অংশ হিসেবে দুই হাজার চব্বিশ সালে সরকার বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ বন্ধের নির্দেশ দেয়।
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি বুরকিনা ফাসো প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। সামরিক শাসনাধীন এই তিন দেশ মিলে সাহেল রাষ্ট্র জোট প্রতিষ্ঠা করেছে, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা।
















