‘হ্যাঁ’ জিতলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়বে—দাবিকে ভিত্তিহীন বলছে সরকার
আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে সরকার।
আসন্ন গণভোট সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। এসব গুজবে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়বে। তবে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে সামনে রেখে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য প্রচার করছে। ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছিল নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন।
প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে এই সময় অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন শেষে সংসদ স্বাভাবিক নিয়মেই সরকার গঠন করবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। একই সঙ্গে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
সরকার আরও জানায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে—একদিকে আইনপ্রণেতা, অন্যদিকে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। তবে এই আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান নেই।
প্রেস উইং বলছে, সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদ স্বাভাবিক কাঠামোয় ফিরে যাবে এবং সরকারের মেয়াদ নিয়ে নতুন কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। ফলে গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তা নিছক গুজব ছাড়া কিছুই নয়।
















