‘উদ্ভট সংজ্ঞা’ প্রত্যাখ্যান করে সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স দাবি
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে সেনা মোতায়েন ও মনিটরিং সেল গঠনের আহ্বান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞায়ন নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, ড. ইউনূস সাম্প্রদায়িকতার এমন একটি নতুন সংজ্ঞা দিতে চাইছেন কি না—যেখানে কেবল মন্দির বা উপাসনালয়ের ভেতরে সংঘটিত সহিংসতাকেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, আর সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যত্র সংঘটিত ঘটনাগুলোকে নয়। তারা এই ধরনের সংজ্ঞাকে ‘উদ্ভট’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদ জানায়, গত এক বছরে দেশে মোট ৫২২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু চলতি জানুয়ারি মাসেই ৪২টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম ক্ষোভ, শঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, এই পরিস্থিতিতে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো উদ্যোগই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করতে পারছে না। বরং অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন থেকে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার রাজনৈতিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং একটি কার্যকর মনিটরিং সেল গঠন করা।
এ ছাড়া সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা মোতায়েন, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনায় কঠোর শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ঐক্য পরিষদ বলেছে, নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।















