হরমুজ প্রণালি ও ওমান সাগরে মার্কিন জাহাজের জন্য ‘নরক’ তৈরির হুমকি; মোতায়েন শত শত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সমুদ্রের নিচে নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র টানেলের এক বিশাল নেটওয়ার্ক উন্মোচন করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, এসব টানেলে শত শত দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে যা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অবস্থানরত যেকোনো শত্রু জাহাজকে মুহূর্তেই ধ্বংস করতে সক্ষম।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই স্থাপনার ফুটেজ সম্প্রচার করা হয়, যেখানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।
২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সতর্ক করে বলেছে যে দেশটির ওপর কোনো হামলা হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ আর নিরাপদ থাকবে না। আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার তাংসিরি জানান, এসব আন্ডারগ্রাউন্ড সুড়ঙ্গে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি (প্রায় ৬২১ মাইল) পাল্লার শত শত ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। বিশেষ করে তাদের নতুন ‘কাদের ৩৮০ এল’ (Qader 380 L) ক্ষেপণাস্ত্রটি স্মার্ট গাইডেন্স ব্যবস্থাসম্পন্ন, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মুহূর্ত পর্যন্ত তাকে অনুসরণ করতে পারে। তেহরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি মার্কিন রণতরীগুলোর জন্য ‘নরক’ তৈরি করবে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব তুলে ধরে আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ জানান, বর্তমানে এই অঞ্চলের আকাশ, স্থল ও পানির নিচে ইরানের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে তাদের জবাব হবে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর। এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
















