গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃত্বে নয়টি রাজনৈতিক দল নিয়ে নতুন ভোটকেন্দ্রিক জোট গঠনের আলোচনা সামনে এসেছে। এই উদ্যোগটি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বলয়ের বাইরে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক জোট তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, বিদ্যমান দুটি রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থেকে এনসিপি নিজেদের নেতৃত্বে নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দলটি নিজস্ব সংগঠন শক্তিশালী করা ও নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তকরণে মনোযোগ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের ভোট টানতে চাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, আর জামায়াত জুলাই সনদ ও বিচার সংস্কারের প্রশ্নে কিছুটা অনীহা দেখাচ্ছে। অন্যদিকে এনসিপি জুলাই সনদ, গণপরিষদ নির্বাচন ও নতুন সংবিধান গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে এনসিপির সঙ্গে মিল রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর। এ দলগুলো সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের দাবি তুলেছে।
বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে নয়; দলটি পরবর্তী সংসদে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চায়। এনসিপি ও জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ ও গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে সংস্কার কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছে।
তরুণ নেতৃত্বে গঠিত এনসিপি গত বছর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর জন্ম নেয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই দল আত্মপ্রকাশ করে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আকরাম হোসেন সবাই সাবেক ডাকসু নির্বাচনের তরুণ নেতৃত্ব থেকে উঠে এসেছেন।
গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপির মধ্যে একীভূত হওয়ার আলোচনা শুরু হলেও নেতৃত্ব নিয়ে মতভিন্নতার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর থেকেই নয়টি দলের নতুন জোট গঠনের আলোচনা শুরু হয়।
এনসিপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী জোট গঠনের প্রচেষ্টা চলছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানও বলেন, নয়টি দল মিলে নির্বাচনী জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে, যেখানে রাষ্ট্র সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে মতবিনিময় হয়।
গত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপির মধ্যে তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে যোগ দেয়নি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনমূলক বোঝাপড়া থাকলেও বিএনপির বাইরে থেকেও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে জোট হবে কি না, আসন সমঝোতা হবে কি না তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তিনি আরও বলেন, এনসিপির সনদ স্বাক্ষর না করা জোট গঠনের আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না, কারণ সময় এখনো বাকি আছে এবং ভবিষ্যতে দলগুলো বিষয়টি বিবেচনা করবে।
















