যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস শহরে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে শীর্ষ এক অভিবাসন কর্মকর্তা শহরটি ছাড়তে যাচ্ছেন। এ ঘটনাকে হোয়াইট হাউসের অবস্থানে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে দ্বিতীয় এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সীমান্ত টহল বাহিনীর কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো ও তার সঙ্গে থাকা কিছু কর্মকর্তা মিনিয়াপলিস ত্যাগ করছেন। তাদের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ অভিবাসন দূত টম হোম্যান ঘটনাস্থলে সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন। শনিবার অ্যালেক্স প্রেট্টি নামের এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হওয়ার পর শহরে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্তকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে অতিরিক্ত কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে অনলাইন তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
নিহত অ্যালেক্স প্রেট্টিকে গুলি করার ঘটনায় বোভিনো নেতৃত্বাধীন বাহিনী দাবি করে, তিনি ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে এগিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, আত্মরক্ষার্থেই গুলি ছোড়া হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতের পরিবার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, প্রেট্টির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, তিনি কেবল মোবাইল ফোনে ছবি তুলছিলেন।
এর আগে বোভিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে বিভিন্ন শহরে অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বক্তব্য ও আচরণ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে বলে অভিযোগ ওঠে।
মিনিয়াপলিস ও পাশের শহর সেন্ট পলের বাসিন্দারা জানান, ফেডারেল অভিযানের কারণে অনেক মানুষ কাজে যেতে বা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। শহরে বর্তমানে তিন হাজারের বেশি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের নেতারাই স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেও প্রেট্টির মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে ফেডারেল সরকারের সহযোগিতা চান।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার গভর্নর ওয়ালজ ও মেয়র ফ্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। উভয় পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের পথ খোঁজার ইঙ্গিত দিয়েছে। গভর্নর ওয়ালজ জানান, ফেডারেল কর্মকর্তার সংখ্যা কমানো এবং রাজ্য সংস্থার মাধ্যমে স্বাধীন তদন্তের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে অ্যালেক্স প্রেট্টির স্মরণে শহরে স্মরণসভা ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নিহতের বোন এক বিবৃতিতে তার ভাইকে নায়ক আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর কত নিরপরাধ প্রাণ গেলে এই সহিংসতা থামবে।
আগামী দিনগুলোতে আরও বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মেয়র ফ্রে জানিয়েছেন, তিনি টম হোম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন। এতে করে ফেডারেল ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা জোরদার হতে পারে।
















