ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবারের ওই দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ থাকা প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধারে রবিবার থেকে আবারও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে উদ্ধারকর্মীরা।
ভারী বৃষ্টির কারণে রাতের বেলা উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উদ্ধার অভিযানের সমন্বয়কারী আদে দিয়ান পারমানা জানান, আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে কাজ স্থগিত করা হয়েছিল, তবে রবিবার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু করা হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শনিবার সকালে পশ্চিম জাভার ওয়েস্ট বান্দুং জেলার একটি আবাসিক এলাকায় ভূমিধসটি ঘটে। এতে ঘরবাড়ি মাটিচাপা পড়ে এবং বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। নতুন করে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা ১০ জনে পৌঁছেছে।
শনিবার উদ্ধারকাজে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে টানা বৃষ্টি ও অস্থিতিশীল মাটি। কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি এবং উদ্ধারকর্মীদের হাতে খুঁড়েই কাজ চালাতে হয়েছে।
পশ্চিম জাভার বিভিন্ন এলাকায় একই সময়ে বন্যার খবরও পাওয়া গেছে। রাজধানী জাকার্তাসহ কয়েকটি অঞ্চলে পানি বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের উঁচু জায়গা বা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়েছে।
ভূমিধসকবলিত পাসির লাঙ্গু গ্রামের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী দেদি কুরনিয়াওয়ান জানান, এটি তার জীবনে দেখা প্রথম বড় ধরনের ভূমিধস। তিনি বলেন, আগে কাছের নদী থেকে সামান্য বন্যা হতো, কিন্তু এবার পাহাড়ি জঙ্গল থেকে হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে।
উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় হাতে খোঁড়া, ড্রোন এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জাতীয় উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে। তবে ওয়েস্ট বান্দুংয়ের মেয়র সতর্ক করে বলেছেন, এলাকার ভূখণ্ড অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এখনও মাটি ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলা এই মৌসুমে এমন দুর্যোগ নিয়মিত দেখা যায়। গত বছরের শেষ দিকে সুমাত্রা দ্বীপে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় এক হাজার দুই শত মানুষ নিহত হয় এবং দুই লক্ষ চল্লিশ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা এসব দুর্যোগের পেছনে বন উজাড়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন। এর আগে সুমাত্রার বন্যার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবিতে সরকার একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। চলতি মাসেই সিয়াউ দ্বীপে ভারী বৃষ্টিজনিত আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়।
















