উত্তর গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একই পরিবারের দুই শিশু নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও সাম্প্রতিক এই হামলাকে চুক্তি লঙ্ঘনের নতুন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সূত্রগুলো।
শনিবার গাজার চিকিৎসা সূত্র জানায়, উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেসামরিক মানুষের ওপর ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। এতে দুই শিশু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।
তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে শীতের মধ্যে বহু ফিলিস্তিনি যেখানে-সেখানে কাঠ ও অন্যান্য জ্বালানির খোঁজে বের হতে বাধ্য হচ্ছে। রাতে তাপমাত্রা প্রায় দশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসকারী মানুষজন প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির হাত থেকে খুব সামান্য সুরক্ষা পাচ্ছে। বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্রই পাতলা কাপড় ও প্লাস্টিকের শিট দিয়ে তৈরি। এর মধ্যেই ইসরায়েল গাজায় তাঁবু, অস্থায়ী ঘর বা তাঁবু মেরামতের উপকরণসহ জরুরি ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বা কঠোরভাবে সীমিত করছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে অভিযোগ রয়েছে।
অক্টোবরের দশ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই শত শতবার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অক্টোবরের এগারো তারিখের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারশ একাশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজার দুইশ ছয় জন আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দুই হাজার তেইশ সালের সাত অক্টোবর থেকে চলমান অভিযানে গাজায় মোট একাত্তর হাজার ছয়শ চুয়ান্ন জন নিহত এবং এক লাখ একাত্তর হাজার তিনশ একানব্বই জন আহত হয়েছেন।
এদিকে শীতজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি শীত মৌসুমে ঠান্ডাজনিত কারণে আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিন মাস বয়সী আলী আবু জুর আল আকসা শহীদ হাসপাতালে তীব্র ঠান্ডার কারণে মারা যায়। এ নিয়ে শীতের শুরু থেকে ঠান্ডায় মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়াল দশে।
অন্যদিকে, একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র গাজাকে নতুনভাবে পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে, যেখানে আবাসিক ভবন, তথ্যকেন্দ্র ও সমুদ্রতীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনাকে ঘিরে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চললেও ধারাবাহিক লঙ্ঘনে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।













