ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনীর প্রধান অব মোহাম্মদ আবদুল করিম আল-গামারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।
হুথিদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আল-গামারি ও তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে হুসাইন “ইসরায়েলি শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মানজনক যুদ্ধে” প্রাণ হারিয়েছেন। তবে বিবৃতিতে হামলার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, গামারি আগস্টের শেষ দিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং পরে তার মৃত্যু হয়। ওই হামলায় হুথি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আরও কয়েকজন মন্ত্রীও নিহত হন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমাদের ক্ষতি করার পরিকল্পনাকারী সন্ত্রাসী নেতাদের আরেকজনকে আমরা নির্মূল করেছি। আমরা তাদের সবাইকে খুঁজে বের করব।”
ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা গত এক দশক ধরে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১৪ সালে তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা ইসরায়েল ও লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে, তারা দাবি করে এসব হামলা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ।
এই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও ইয়েমেনে হুথি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে “আমেরিকান-সায়োনিস্ট আগ্রাসনে” বিপুল সংখ্যক বেসামরিক ও সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা আরও জানিয়েছে, “শহীদ নেতা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল করিম আল-গামারি তার কিছু সহযোদ্ধা ও পুত্রের সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকালে শাহাদত বরণ করেছেন।”
দলটি জানিয়েছে, এমন মৃত্যু তাদের কাছে “গর্বের প্রতীক”, এবং তারা এর প্রতিশোধ নেবে। “শত্রুর সঙ্গে সংঘর্ষের অধ্যায় এখনো শেষ হয়নি, সায়োনিস্ট শত্রু তার অপরাধের যথাযথ শাস্তি পাবে,” বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “গামারি এখন তথাকথিত মন্দ অক্ষের পরাজিত সহযোগীদের সঙ্গে নরকের গভীরে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা হুথিদের হুমকি দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে একইভাবে পদক্ষেপ নেব।”
গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে হুথিদের কোনো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী এখনো প্রস্তুত রয়েছে এবং যদি ইসরায়েল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে, তবে তারা আবারও প্রতিক্রিয়া জানাবে।
















