সংস্কার কমিশনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ কার্যকর না হওয়ায় নির্বাচন এখনও অনাস্থার মধ্যেই রয়েছে বলে মনে করছেন কমিশনের সদস্য ও সাবেক ইসি কর্মকর্তা।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী।
তার মতে, শুধু আইন পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ ও সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন না এলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় ‘আইন না মানার প্রবণতা’ এখনো খুব প্রকট।
একটি টেলিভিশন আলোচনায় অংশ নিয়ে জেসমিন টুলী বলেন, বাংলাদেশের সামনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটের পরিবেশ এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যেখানে ভোটাররা নিরাপদ বোধ করতে পারেন।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর প্রসঙ্গে তিনি জানান, কমিশন সব আসনে ‘না’ ভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা আংশিকভাবে গ্রহণ করেছে। কেবল একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ‘না’ ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা মূল সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া, প্রার্থীর যোগ্যতা ও তৃণমূলের সুপারিশ বাস্তবায়নের মতো বিষয়েও বহু প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগের মতোই নিয়ম ভাঙার সংস্কৃতি রয়ে গেছে।
নির্বাচনী প্রচারের আগেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন টুলী। তার ভাষায়, প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচার চালানো, ব্যানার টাঙানো ও প্রতিশ্রুতির বন্যা মূলত রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে প্রচার চালানোর ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের শোকজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আচরণবিধি ভঙ্গ হলে যে দলেরই হোক না কেন, একই নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
প্রচারের আগেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন। বলেন, দলীয় ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক বিষয়, আর ভোটের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা আচরণবিধি লঙ্ঘন।
পোস্টাল ব্যালট চালুর প্রশংসা করে জেসমিন টুলী বলেন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এটি আরও কার্যকর করতে স্পষ্ট বিধান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে হলে সরকারের সদিচ্ছা, রাজনৈতিক দলগুলোর আইন মানার মানসিকতা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকর প্রয়োগক্ষমতা একসঙ্গে প্রয়োজন।
তার ভাষায়, “ভালো নির্বাচন ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। এবারও যদি নির্বাচন নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের ওপর মানুষের আস্থা আরও দুর্বল হবে।”
















