মোহাম্মদপুরে নির্বাচনী জনসভায় গণভোট নিয়ে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ; জুলাই বিপ্লবকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ডাক।
গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ‘দ্বিচারিতা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ঢাকা-১৩ আসনে ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক। তিনি অভিযোগ করেছেন, অনেক শক্তি প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বললেও গোপনে মানুষকে ‘না’ ভোটের পক্ষে সংগঠিত করছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শহীদ পার্ক মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই জনসভার মাধ্যমেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করলেন মামুনুল হক। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতেই চব্বিশের জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু একটি পরাজিত শক্তি জুলাই বিপ্লবকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই ইসলামী দলগুলোর এই ঐক্য গড়ে উঠেছে এবং এই ঐক্যই বাংলাদেশকে পাহারা দেবে।
নিজের নির্বাচনী এলাকা নিয়ে মামুনুল হক বলেন, মোহাম্মদপুরের মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার ৪০ বছরের সম্পর্ক। এই এলাকাকে সন্ত্রাস, জুলুম, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারিদের হাত থেকে মুক্ত করার শপথ নিয়ে আমি ভোটের ময়দানে নেমেছি। ইনশা-আল্লাহ, আমরা এই এলাকাকে আধিপত্যবাদমুক্ত করেই ছাড়ব।
জনসভায় এক বিশেষ আবহ তৈরি হয় যখন একাত্তরের বীর শহীদদের পাশাপাশি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে উপস্থিত হন। শহীদ বাদশা মিয়ার বাবা ফিরোজ মিয়া এবং শহীদ রুহুল আমিন রুবেলের বাবা বাচ্চু মিয়া মামুনুল হকের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন। জনসভা মঞ্চের দুই পাশে ১০-দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ‘রিকশা’ প্রদর্শন করা হয়।
বক্তারা বলেন, আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই ঘোষণা দেওয়ার জন্যই আজ সব দেশপ্রেমিক শক্তি এক কাতারে শামিল হয়েছে।















