২৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে; সরকারের প্রতি ৩ দফা প্রস্তাব বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-র
রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের সংকট কাটাতে কাঁচা সুতার (ইয়ার্ন) ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষ দুই সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটির নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক মন্দা ও জ্বালানি সংকটের এই সময়ে শুল্ক আরোপ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজিএমইএ-এর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট সেলিম রহমান সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, ট্যারিফ কমিশন রপ্তানিকারকদের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই একপক্ষীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিরাপত্তা চুক্তিরও পরিপন্থী বলে তিনি দাবি করেন।
গার্মেন্টস মালিকদের আপত্তির প্রধান কারণসমূহ:
- রপ্তানি খাতে হুমকি: দেশের মোট গার্মেন্টস রপ্তানির ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার আসে নিটওয়্যার খাত থেকে। সুতার দাম বাড়লে এই বিশাল বাজার হারানোর শঙ্কা রয়েছে।
- বাজার পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা: বিশ্ববাজারে সুতার দাম কমলেও সরকার সেই পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছে বলে উদ্যোক্তারা দাবি করেন।
- স্থানীয় মিলের সক্ষমতা: স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বর্তমানে চাহিদার মাত্র ৬০ শতাংশ মেটাতে পারছে। বাকি সুতা আমদানির ওপর শুল্ক বসালে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে।
- জ্বালানি সংকট: পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় এমনিতেই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তার ওপর কাঁচামালের খরচ বৃদ্ধি শিল্পের অস্তিত্ব বিপন্ন করবে।
সরকারের প্রতি ৩ দফা প্রস্তাবনা:
| প্রস্তাব নং | মূল দাবি |
| ১ | কাঁচা সুতার ওপর প্রস্তাবিত সব ধরনের শুল্ক অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। |
| ২ | স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোকে রক্ষার জন্য আমদানিতে শুল্ক না বসিয়ে তাদের সরাসরি প্রণোদনা দেওয়া। |
| ৩ | শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা। |
চরম হুঁশিয়ারি:
বিজিএমইএ নেতা সেলিম রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্থানীয় মিলগুলো যদি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সঠিক সময়ে সুতা সরবরাহ করতে পারে, তবে ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে সুতা আমদানিতে আগ্রহী নন। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শুল্ক আরোপ করা হলে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় তাঁরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
















