নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬০০-৯০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা; কৃত্রিম সংকটের নেপথ্যে ‘রমজান সিন্ডিকেট’
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার খুচরা বাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে এলপিজি (LPG) গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। অনেক ডিলার ও খুচরা দোকানে কেবল খালি সিলিন্ডার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মূলত এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কারণে বাজারে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর সরেজমিন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩০৬ টাকা হলেও চকরিয়া ও পেকুয়ায় তা ১,৮০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রান্নার গ্যাস না পেয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সাধারণ বাসাবাড়িতে চরম ভোগান্তি বিরাজ করছে।
ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ:
- বাসাবাড়িতে ভোগান্তি: বাটাখালি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আয়ুব জানান, কয়েকদিন ধরে বাসায় রান্না বন্ধ থাকায় নিরুপায় হয়ে ১,৮৫০ টাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।
- হোটেল ব্যবসায় লোকসান: ধানসিঁড়ি রেস্তোরাঁর মালিক শাহ আলম জানান, কৃত্রিম সংকটের কারণে সিলিন্ডার প্রতি ৭০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। সঠিক সময়ে গ্যাস না পাওয়ায় ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
- ডিলারদের অসহায়ত্ব: স্থানীয় ডিলাররা দাবি করছেন, কোম্পানিগুলো চাহিদার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ দিচ্ছে। ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস না আসায় খুচরা পর্যায়ে সংকট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
এক নজরে কক্সবাজার এলপিজি গ্যাস সংকট:
| বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি |
| আক্রান্ত এলাকা | চকরিয়া পৌরসভা, পেকুয়া ও উপকূলীয় এলাকা। |
| সরকারি নির্ধারিত দাম | ১,৩০৬ টাকা (১২ কেজি)। |
| বর্তমান বাজার দর | ১,৮০০ – ২,২০০ টাকা। |
| সংকটের কারণ | ডিস্ট্রিবিউটরদের সরবরাহ ঘাটতি ও আসন্ন রমজান ঘিরে মজুতদারি। |
| প্রশাসনের পদক্ষেপ | ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বাজার তদারকি। |
প্রশাসনের ভূমিকা ও জনদাবি:
অভিজ্ঞমহলের মতে, আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে একটি অসাধু সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে বাজার তদারকি শুরু করেছে এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় কিছু দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভোক্তাদের দাবি, কেবল খুচরা বিক্রেতা নয়, বরং বড় ডিলার ও সরবরাহকারী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
















